ক্রাইম পোস্ট | Crime Post

খুলনায় ৭৫ হত্যাকাণ্ড: দুই দিনে চার খুন, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসে আতঙ্ক, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম প্রশাসন’

মোঃ আরিয়ান ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৪ এএম
আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৫ এএম
খুলনায় ৭৫ হত্যাকাণ্ড: দুই দিনে চার খুন, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসে আতঙ্ক, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম প্রশাসন’
ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা থেকে সাধারণ মানুষ—কেউই বাদ যাচ্ছেন না চাঁদাবাজদের হাত থেকে। চাঁদার দাবিতে হুমকি, সশস্ত্র হামলা, গুলি ও হত্যাকাণ্ডে ক্রমেই বাড়ছে আতঙ্ক।

খুলনা মহানগরী ও জেলাজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, চিকিৎসক, জমির মালিক এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও চাঁদাবাজদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি, গুলি ও সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে নগরবাসীর।

সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গুলিবর্ষণ ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, স্কুলছাত্রী, নারী ও পথচারীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও থামছে না অপরাধের ঘটনা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগরী ও জেলায় ৭৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে মহানগরীতে ৩৭টি এবং জেলায় ৩৮টি। উদ্বেগের বিষয়, সর্বশেষ ১২ দিনে সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে মাত্র দুই দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর তাঁতী দলের এক নেতা। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত পাঁচজন, যাদের মধ্যে যুবদলের বর্তমান ও সাবেক তিন নেতা রয়েছেন।

তাঁতী দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিহতের স্বজন ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের এক নেতার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেনকে দায়ী করেছেন নিহতের ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল আলম বিপ্লব। ১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হুমায়ুন কবিরের মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।

চাঁদাবাজদের হামলা থেকে রেহাই নেই পুলিশ কর্মকর্তারও

সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও। গত ৯ অক্টোবর পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা থাকলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে না।

পুলিশের এক কর্মকর্তার দাবি, অনেক ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তার অভাবে মামলা করতে চায় না। আবার গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, খুলনা কমার্স কলেজের পাশে এক স্বনামধন্য চিকিৎসকের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর গড়া সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি-কোম্পানি’। আতঙ্কে ওই চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন। একই এলাকার আরেক চিকিৎসকের কাছে দুই কোটি টাকা দাবি করা হলে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তবে ভুক্তভোগীদের কেউই থানায় অভিযোগ করেননি বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন চিকিৎসকের কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

গত ৭ অক্টোবর খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতি মাসে ৩৫ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যদিও চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার।

এদিকে সন্ধানী ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবি পূরণ না করায় ক্লিনিকে ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মামলা না করা হলেও খুলনা সদর থানা-পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। পরে এক কোটি টাকায় বিষয়টি সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি সূত্র।

এর আগে গত ৮ আগস্ট বটিয়াঘাটা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অনিন্দ্য কুমার দাশকে মারধর করে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি রক্ষা পান। তবে শেষ পর্যন্ত চাঁদা দেওয়ার পরই তিনি মুক্তি পান বলে জানা গেছে।

গত ২৮ অক্টোবর নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের ‘চয়নিকা’ ফার্মেসির ম্যানেজার বাবুর কাছে ২০ লাখ টাকা ও ১০টি মোটরসাইকেল চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হুমকির পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রেখে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। বর্তমানে দোকানটি বন্ধ রয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় আহসান আহমেদ রোডের চাইনিজ প্যালেসে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা।

এর আগে ২৫ অক্টোবর দুপুরে সোনাডাঙ্গায় সন্ধানী ক্লিনিকের দ্বিতীয় শাখায় সশস্ত্র মহড়া দেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দুই দিন পর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের আপস হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও। গত ২৬ অক্টোবর পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে বলা হয়, ‘হয় অর্থ, নয় রক্ত—এই দুটির যেকোনো একটি দিতে হবে।’ এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ দুজনকে আটক করে। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

একইভাবে গত ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা থানা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জি এম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক জি এম আক্কাস আলীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবিতে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দুজনই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটের রামপাল থেকে কথিত ‘গ্রেনেড বাবু’ নামে পরিচিত ইমরানকে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে গ্রেফতার করে।

গুলি, হামলা ও হত্যাকাণ্ডে বাড়ছে উদ্বেগ

চাঁদাবাজির পাশাপাশি খুলনায় বেড়েছে প্রকাশ্যে গুলি ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা। গত ২৪ অক্টোবর দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন কলেজ প্রভাষক ও মুদি দোকানি ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু। ২৭ অক্টোবর মহানগরীর নিরালা এলাকায় সিগারেট কোম্পানির পিয়ন সালমানকে গুলি করা হয়।

এ ছাড়া ২৬ অক্টোবর বটিয়াঘাটায় যুবদল কর্মী সোহেল এবং পরদিন যুবদল সভাপতি অহিদুল ইসলাম বাদল গুলিবিদ্ধ হন। তাঁরা বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। ২৪ অক্টোবর তেরখাদার মধুপুর ইউনিয়নের যুবদল নেতা রামিম বিশ্বাসও গুলিতে আহত হন।

গত ২২ অক্টোবর লবণচরা থানার জিন্নাপাড়া এলাকায় ‘ব্লেড বাবু’র স্ত্রী খুশিকে গুলি করা হয়। একই দিন সদর থানার পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য তুষারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর আগে ১৭ অক্টোবর টুটপাড়া আমতলা মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন জুম্মন ওরফে জুম্মা। একই দিন সাইকেল বুড়ো মৌলভীর দরগা রোডের বকুলতলা মোড়ে এক মোটরসাইকেল আরোহীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ওই দিনই খুলনা সদর থানার ক্লে রোডের নিক্সন মার্কেট এলাকায় মহানগর হকার ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলম ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।

১০ অক্টোবর কাশেমনগর তৃতীয় গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন আশিকুজ্জামান জনি। অন্যদিকে অক্টোবরে দিঘলিয়ার ফরমাইশখানা এলাকায় বাড়ির সামনে চা পান করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা মো. নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম।

অপরাধের ঘটনায় আলোচনায় নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপ

খুলনায় সাম্প্রতিক অপরাধের ঘটনাগুলোতে বারবার উঠে আসছে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম। জনবহুল এলাকাতেও প্রকাশ্যে গুলি ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় এসব গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশের একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর ‘বি-কোম্পানি’, শেখ পলাশের ‘পলাশ গ্রুপ’, ‘নূর আজিম গ্রুপ’, ‘আশিক বাহিনী’, হুমায়ুন কবিরের ‘হুমা বাহিনী’, শেখ সাইদুর রহমান ওরফে শাওনের ‘টেংকি শাওন গ্রুপ’, আরমান শেখের ‘আরমান গ্রুপ’, শাকিল শেখের ‘শাকিল গ্রুপ’ এবং ‘নাসিম গ্রুপ’।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলোর দাবি, খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব গ্রুপের প্রভাব রয়েছে। পুরো শহরে বাবু গ্রুপের আধিপত্য রয়েছে বলে অভিযোগ। নূর আজিম ও আশিক গ্রুপ সক্রিয় খুলনা সদর ও লবণচরা এলাকায়। শাওন গ্রুপের তৎপরতা সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুরে। অন্যদিকে আরমান গ্রুপ ও হুমা বাহিনীর প্রভাব রয়েছে দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায়।

নাসিম গ্রুপের প্রধান নাসিমুল গণি গত ৪ অক্টোবর দিঘলিয়া উপজেলায় গুলিতে নিহত হন। গত কয়েক মাসে খুলনা সদর, লবণচরা ও হরিণটানা এলাকায় গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটেছে।

জেলা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায়ও ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর কারও কারও বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, জমি, মাছের ঘের, বালুর ব্যবসা, পরিবহন ও ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নাগরিক নেতারা

খুলনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক নেতারা। নাগরিক নেতা বাবুল হাওলাদার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নাগরিক নেতারা অনেকটাই বাকরুদ্ধ। প্রায় প্রতিটি এলাকায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। নগরীর এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নেই, যারা কোনো না কোনোভাবে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতানুগতিক বক্তব্যে নাগরিকদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে। খুলনাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে প্রশাসনের জনবল বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশের দাবি, মাদককেন্দ্রিক বিরোধেই বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ড

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক-সম্পর্কিত বিরোধ রয়েছে। পুলিশ তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করছে। কিন্তু তাদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষও অনেক সময় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না। এটিও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় বাধা।

তিনি বলেন, খুলনায় মাদককেন্দ্রিক অপরাধের প্রবণতা বেশি। অনেক ক্ষেত্রে বস্তি এলাকার কিশোর-তরুণদের ব্যবহার করে অপরাধ সিন্ডিকেট পরিচালনা করা হয়। অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নদীর চরে মিলল গুলিবিদ্ধ দুই মরদেহ

খুলনায় সর্বশেষ আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে রূপসা উপজেলায়। আঠারোবেকি নদীর চরে সোমবার দুপুরে স্থানীয়রা প্রথমে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই স্থানে আরও একটি মরদেহ দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

নিহতদের একজন মেহেদী হাসান (৩৫)। তিনি রূপসার রাজাপুর এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে। একসময় জেলখানা ঘাটে মাঝি হিসেবে কাজ করতেন। অপরজনের নাম রেজাউল করিম (৩০)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজনই গ্রেনেড বাবুর গড়া ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁদের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, দুজনকেই গুলি করে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মেহেদীর চোখের ওপর ভ্রুর পাশে এবং রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

সন্ত্রাস দমনে অভিযান চলছে: পুলিশ সুপার

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার ওমর ফারুক সরকার। তিনি বলেন, জেলায় সন্ত্রাস দমনে ব্লক রেইড, স্পট রেইড এবং অপরাধীদের তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনার হত্যাকাণ্ডগুলোর বেশির ভাগই মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে ঘটছে। এ কারণে মাদক স্পটগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দাগি আসামিরা যাতে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়াতে না পারে, সে জন্য বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দ্রুত সন্ত্রাস দমন করে খুলনাকে শান্তির নগরীতে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুলিশ সুপার।

তবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গুলিবর্ষণ, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরছে না। অপরাধীদের গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত খুলনার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।

মন্তব্য (0)

0%
15.4%
15.4%
★69.2%
সাইন-ইন

মন্তব্য প্রকাশের আগে মডারেশন পাস করবে।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

সর্বশেষ
জনপ্রিয়